বিভিন্ন ভাইরাস – তার দ্বারা সংক্রামিত রোগ, তার লক্ষণ, তার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কিত তথ্য | WBCS প্রস্তুতি

বিভিন্ন ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত রোগ, তার লক্ষণ, তার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কিত তথ্য নিন্মে উল্লেখিত করা হলো –

ইনফ্লুয়েঞ্জা (Influenza):-
  1. ভাইরাস – ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস (Orthomyxo Virus)
  2. এই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যাক্তির হাঁচি, কাশির মাধ্যমে অন্য ব্যাক্তির শরীরে প্রবেশ করে ও শ্বাসনালীর মধ্যে বিস্তার ঘটায় ।
  3. আক্রান্ত ব্যাক্তির লক্ষণগুলো হল জ্বর, মাথা ব্যাথা,  হাত পা পেশির যন্ত্রনা ইত্যাদি ।
  4. প্রতিকার – আমানটাডিন, রিমানটাডিন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়
গুটি বসন্ত (Small Pox):-
  1. ভাইরাস – ভারিওলা (Variola)
  2.  বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস বিস্তার করে ।
  3. হাত, পা, মুখ ও সমস্ত শরীরে গুটি সৃষ্টি করে ।
  4. প্রতিকার – এই রোগে আক্রন্ত রোগীকে পৃথক করে রাখা হয় ।
    ভ্যাকসিন আছে – গুটি বসন্তের ভ্যাকসিন

ডেঙ্গু জ্বর (Dengue Fever):-
  1. ভাইরাস – ডেঙ্গু ভাইরাস (Dengue Virus) (Arbo Virus)
  2. স্ত্রী এডিস মশা হলো এই ভাইরাসের বাহক, এই মশার কামড়ে এই ভাইরাস সংক্রামিত হয় ।
  3. এই রজার লক্ষণগুলো হলো প্রচন্ড জ্বর, মাথার যন্ত্রনা ও পেশী – অস্থি সন্ধিতে যন্ত্রনা হওয়া ।
  4. প্রতিকার – কোন ভ্যাকসিন বা টিকা নেই, একমাত্র প্রতিকার মশার কামড় হতে নিজেকে রাখা করা, নিজের বাড়ির চারপাশে জল জমতে না দেওয়া ও পরিষ্কার পরিছন্ন থাকা।

জলাতঙ্ক (Rabies):-
  1. ভাইরাস – রেবিস ভাইরাস (Rabies Virus)
  2. এই ভাইরাস কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি পশুর লালারস বা দেহ তরলের মাধ্যমে সংক্রামিত হয় ।
  3. এই রোগের লক্ষণগুলি হলো উত্তেজনা, উৎকণ্ঠা, জ্বর, মানসিক অবসাদ, ক্ষুধামন্ধ্যা, গলা – বুক জ্বালা, জল  আতঙ্ক ইত্যাদি ।
  4. প্রতিকার –  প্রতিশোধক টিকা আছে ।
হেপাটাইটিস (Hepatitis):-
  1. ভাইরাস –  হেপাটাইটিস ভাইরাস (Hepatitis A, B, C Virus etc)
  2. এই ভাইরাস দূষিত জল, আক্রান্ত ব্যাক্তির দেহ তরল, রক্ত, ছুঁচ ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে বিস্তার করে ।
  3. এই রজার লক্ষণগুলো হলো যকৃৎ ফুলে যাওয়া, দেহের ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া ।
  4. প্রতিকার – হেপাটাইটিস B ভ্যাকসিন (HBC), হেপাটাইটিস B ইমিউনো গ্লোবিউলিন

পোলিও (Polio):-
  1. ভাইরাস – পোলিওমায়েলাইটিস ভাইরাস (Polio Myelities ভাইরাস)
  2. এই ভাইরাস খাদ্য ও জলের মাধ্যমে পৌস্টিক নালিতে প্রথমে প্রবেশ করে ।
  3. এই রজার লক্ষণগুলো হল – সাধারণত কম বয়সের শিশুরা পঙ্গু হয়ে যায়, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয়, অসমভাবে প্যারালাইসিস হয়, একটি পা আক্রান্ত হয় ।
  4. প্রতিকার – পালস পোলিও টিকাকরণ পদ্ধতির মাধমে নিষ্ক্রিয় পোলিও টিকা (IPV) এবং ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (OPV) প্রয়োগ ।      

মাম্পস্ (Mumps):-

  1. ভাইরাস – মাম্পস্ ভাইরাস (Mumps Virus)
  2. এই ভাইরাস লালরস ও শ্বাসনালী নিসৃত ডপলেটের মাধ্যমে বাহিত হয় ।
  3. এই রোগের লক্ষণগুলি হল প্যারোটিড গ্রন্থি ফুলে যায়, অল্প জ্বর হয় ও গলা ফুলে যায় ।
  4. প্রতিকার – মাম্পস ভাইরাস (নিষ্ক্রিয় ভাইরাস)

জার্মান হাম (German Measles):-
  1. ভাইরাস – রুবেলা ভাইরাস (Rubella Virus – Togaviridae)
  2. এই ভাইরাস স্পর্শ ও শ্বাসনালীর ক্ষরণের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে ।
  3. এই রজার লক্ষণগুলি হল জ্বর আসা, ত্বকে ছোট ছোট গোল ও লাল দাগ দেখা যায় ।
  4. প্রতিকার – মাম্পস ভ্যাকসিন (নিষ্ক্রিয় ভাইরাস)

AIDS:-
  1. ভাইরাস – HIV Virus (Human Immuno deficiency Virus) (Lenti Virus)
  2. এই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যাক্তির দেহ তরল, রক্ত, রক্তজাত পদার্থ, লালারস, ছুঁচ ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে বিস্তার করে ।
  3. এই ভাইরাস দেহের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা হ্রাস করে ফলে খুব সহজে শ্বাসতন্ত্র, পৌস্টিকতন্ত্র , স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয় ।
  4. AIDS ভাইরাস -এর কোনো প্রতিশোধক বা টিকা নেই । পারস্পরিক সম্পর্ক, আক্রান্ত ব্যাক্তির সাথে সহবাস, রক্ত সঞ্চালন ইত্যাদি বন্দ করে প্রতিরোধ সম্ভব । 
পীত জ্বর (Yellow Fever):-

  1. ভাইরাস – পীত জ্বর ভাইরাস (Yellow Fever Virus)
  2. এই ভাইরাসের বাহক হলো এডিস স্ত্রী মশা । এই মশার কামড়ে এই রোগ হয় ।
  3. এই রোগের লক্ষণগুলি হল প্রচন্ড জ্বর, মাথা যন্ত্রনা, মুখ ফুলে যাই ও লাল বর্ণ ধারণ করে । ২nd স্টেজে জন্ডিস হয় এবং পিত্ত ও রক্ত বমি হয় ।
  4. প্রতিকার – মশার কামড়, মশার দমন ও জ্বর কমানোর ঔষধ 
ব্যাকটিরিওফাজ:-
  1. এটি একটি উপকারী ভাইরাস
  2. গুরুত্ব – অ্যামাশয়, টাইফয়েড, কলেরা প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়াদের ধ্বংস করে পরোক্ষভাবে আমাদের সাহায্য করে । 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *