কম্পাঙ্ক এবং তীক্ষ্ণতা কাকে বলে ? কম্পাঙ্ক এবং তীক্ষ্ণতার পার্থক্য ।

কম্পাঙ্ক

পর্যাবৃত্ত গতিতে স্পন্দনশীল বস্তুকণা, প্রতি সেকেন্ডে যতবার পূর্ণ স্পন্দন করে, সেই সংখ্যাকে ঐ বস্তুকণার কম্পাঙ্ক বা Frequency  বলে ।
 
যদি,

পর্যায়কাল = T
কম্পাঙ্ক = v

তবে, v = 1/T হবে ।

স্পন্দনশীল বস্তুকণার একবার পূর্ণ স্পন্দন হলে মাধ্যমে একটি পূর্ণ তরঙ্গের সৃষ্টি হয় ।

অর্থাৎ, এক সেকেন্ডে মাধ্যমের ভিতর যতগুলি পূর্ণ তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, সেই সংখ্যাকে কম্পাঙ্ক বলে ।

কম্পাঙ্কের একক : সাইকলেস প্রতি সেকেন্ড বা হার্টজ (Hz ) 
 

তীক্ষ্ণতা

শব্দের কোন নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের জন্য আমাদের কানে যে বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি হয়, তাকে তীক্ষ্ণতা বলে । অর্থাৎ শব্দের যে ধর্মের জন্য চড়ার এবং খাদের সুরকে পৃথক ভাবে চেনা যায়, তাকে শব্দের তীক্ষ্ণতা বলে ।

তীক্ষ্ণতা হল শব্দের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য ।

তীক্ষ্ণতার সাহায্যে চড়ার ও খাদের সুরের পার্থক্য নির্ণয় করা যায় ।

যেমন –
‘সা’ সুরের থাকে ‘রে’ সুর চড়া
আবার ‘গা’ সুরের থেকে ‘রে’ সুর খাদের ।

এখানে ‘রে’ সুরের তীক্ষ্ণতা ‘সা’ সুরের থেকে বেশী এবং ‘গা’ সুরের তীক্ষ্ণতা ‘রে’ সুরের থেকে বেশী ।
 
 

কম্পাঙ্ক এবং তীক্ষ্ণতার পার্থক্য ।

শব্দের কম্পাঙ্ক ও তীক্ষ্ণতার মধ্যে পার্থক্য নিন্মে বর্ণনা করা হল —

 
তীক্ষ্ণতা কম্পাঙ্ক
শব্দের যে বৈশিষ্ট্যের জন্য চড়ার খাদের সুরকে পৃথক ভাবে চেনা যায়, তাকে শব্দের তীক্ষ্ণতা বলে । কম্পাঙ্ক হল স্বনকের স্পন্দনের হার, অর্থাৎ এক সেকেন্ডে স্বনকের যতবার পূর্ণ স্পন্দন হয়, সেই সংখ্যাই হল ঐ স্বনকের বা স্বনক দ্বারা উৎপন্ন শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ।
তীক্ষ্ণতা হল আমাদের মস্তিষ্কে শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের একটি বিশেষ অনুভূতি – তাই এটি ভৌত রাশি নয়, একে সরাসরি পরিমাপ করা যায় না । শব্দের কম্পাঙ্ক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় । কম্পাঙ্ক একটি ভৌত রাশি । একে পরিমাপ করা যায় না ।
তীক্ষ্ণতা কেবল সুরযুক্ত শব্দের ক্ষেত্রেই বোঝায় কারণ সুরবর্জিত শব্দের কোন তীক্ষ্ণতা নেই । কম্পাঙ্ক সুরযুক্ত ও সুরবর্জিত উভয় শব্দের ক্ষেত্রেই বোঝায় ।
তীক্ষ্ণতা হল কম্পাঙ্কের ফল । কম্পাঙ্ক হলো তীক্ষ্ণতার কারণ ।
শব্দের তীব্রতা, স্থায়িত্ব প্রভৃতি বিষয়গুলির উপর শব্দের তীক্ষ্ণতা নির্ভর করে । শব্দের তীব্রতা, স্থায়িত্ব প্রভৃতি বিষয়গুলির উপর কম্পাঙ্কের ম্যান নির্ভর করে না ।

 

কিছু জ্ঞান মূলক প্রশ্ন ও উত্তর ।



Q) মশার গুঞ্জনের তীক্ষ্ণতা বাঘের গর্জনের তীক্ষ্ণতার চেয়ে বেশী কেন ?

মশার ডানার কম্পনে উৎপন্ন শব্দের কম্পাঙ্ক, বাঘের গর্জনের কম্পাঙ্কের চেয়ে অনেক বেশী । এখন যেহেতু তীক্ষ্ণতা কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক, তাই মশার ডানার কম্পাঙ্ক বাঘের গর্জনের কম্পাঙ্কের চেয়ে বেশী বলে, মশার গুঞ্জনের তীক্ষ্ণতা বেশী হয় ।
 
Q) পুরুষের গলার স্বরের চেয়ে শিশু বা মেয়েদেড় স্বর সরু হয় কেন ?

 মানুষের গলার স্বরতন্ত্রী পর্দায় কম্পন হলে শব্দ উৎপন্ন হয় । পুরুষের স্বরতন্ত্রী বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃঢ় হয়ে যায়, কিন্তু শিশু বা মেয়েদের স্বরতন্ত্রী নরম থাকে ।
এর ফলে পুরুষের গলা থেকে যে শব্দ উৎপন্ন হয়, তার কম্পাঙ্ক কম হয় । শিশু বা মেয়েদের গলা থেকে উৎপন্ন শব্দের কম্পাঙ্ক বেশি থাকে ।
তাই পুরুষের গলার স্বর মোটা কারণ তীক্ষ্ণতা কম এবং মেয়েদের গলার স্বর চড়া কারণ তীক্ষ্ণতা বেশী ।
 
Q) কলের নিচে একটি খালি কলসী বসিয়ে জল ভর্তি করলে, কলসী থেকে প্রথমে একটি গম্ভীর শব্দ শোনা যাবে । তারপর কলসী যত ভর্তি হতে থাকবে শব্দও তত চড়া হতে থাকবে ।
কলসীর মধ্যে জল যত ভর্তি হতে থাকবে, ওর মধ্যে বায়ুস্তম্ভের দৈঘ্য টোটো কমতে থাকবে, ফলে উৎপন্ন শব্দের কম্পাঙ্ক তত বাড়তে থাকবে ও উৎপন্ন শব্দের তীক্ষ্ণতা তত বাড়ে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *